Showing posts with label জ্ঞান দৈনন্দিন. Show all posts
Showing posts with label জ্ঞান দৈনন্দিন. Show all posts

Saturday, June 13, 2020

হার্ড ইমিউনিটি- কত প্রাণের বিনিময়ে তা অর্জন সম্ভব? Bangla Science Fact on Herd Immunity

হার্ড ইমিউনিটি- কত প্রাণের বিনিময়ে তা অর্জন সম্ভব? Bangla Science Fact on Herd Immunity

herd-immunity-in-bangla-latest-new-science-on immunilogy
Image by Erico ericojr from Pixabay

হার্ড শব্দটির অর্থ পশুর পাল বা পশুর দল আর ইমিউনিটি মানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। আসলে হার্ড ইমিউনিটি শব্দটি মূলত পশুদের রোগপ্রতিরোধ পদ্ধতি থেকে এসেছে। ১০০ টি গরুর মধ্যে যদি ৮০ টি গরুকে কোন নির্দিষ্ট রোগের ভ্যাকসিন দেওয়া হয় তবে ৮০টি গরু ঐ রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করবে। তাহলে ঐ ৮০টি গরু নতুন করে ঐ নির্দিষ্ট রোগে আক্রান্ত হবেনা। ফলে বাকি বিশটি গরুতে তাদের দ্বারা রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। এভাবে গরুগুলোর মধ্যে ঐ রোগটি আর ছড়াতে পারবে না। রোগটি ধীরে ধীরে বিদায় নিবে।

তবে হার্ড ইমিউনিটি দুই ভাবে অর্জন করা যায়। একটি হল ভ্যাকসিন প্রয়োগের মাধ্যমে আরেকটি রোগটিতে আক্রান্ত হওয়ার মাধ্যমে। কেননা ভ্যাকসিন প্রয়োগ করলে শরীরে যেমন ভাইরাসটির বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়ে ঐ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে ঠিক তেমনি কেউ ভাইরাল রোগে আক্রান্ত হলেও তার শরীরে এন্টিবডি তৈরি হয়ে ঐ ভাইরাসটির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করে। তাহলে ভ্যাকসিন নেওয়ার মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা ভাল নাকি রোগে একবার আক্রান্ত হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা ভাল? নিশ্চয়ই ভ্যাকসিন সর্বোত্তম। উদাহরণ স্বরূপ, আপনি যখন পোলিও ভ্যাকসিন নিবেন তখন আপনার শরীরে পোলিও রোগটি হবেনা তবে আপনার শরীরে পোলিওর বিরুদ্ধে এন্টিবডি তৈরি হয়ে থাকবে যা সারাজীবন আপনাকে পোলিও রোগ থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু আপনি যদি ভাবেন, পোলিও ভ্যাকসিন না নিয়েও একবার পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে পোলিওর বিরুদ্ধে সারাজীবন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করবেন, সেটাও সম্ভব। তারমানে একবার পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে পঙ্গুত্ব লাভ করেন এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করেন যাতে আর কোনোদিন আপনার পোলিও না হয়। হ্যা, একবার পোলিও আক্রান্ত হলে দ্বিতীয়বার আপনার পোলিও রোগটি হবেনা সত্য। কিন্তু প্রথমবারেই পোলিও আক্রান্ত হয়ে আপনি পঙ্গুত্ব লাভ করতে পারেন এমনকি মারাও যেতে পারেন।

তবে কয়েকটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সকল ভাইরাসের বিরুদ্ধে সমানভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করা যায় না। কোনও কোনও ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরে যে এন্টিবডি তৈরি হয় তা স্বল্পমেয়াদী হয় আবার কোনও কোনও ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শরীরে যে এন্টিবডি তৈরি হয় তা দীর্মেঘয়াদী। যেমন- বসন্ত একবার হলে শরীরে যে এন্টিবডি তৈরি হয় তা যুগের পর যুগ কার্যকর থাকে। ফলে আপনার একবার বসন্ত হলে পরবর্তী জীবনে বসন্ত হওয়ার সম্ভাবনা নাই বললেই চলে। আরেকটি বিষয় মনে রাখতে হবে, সবার শরীর সমানভাবে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা অর্জন করতে পারে না। যেমন- এইচআইভি ও ক্যানসার আক্রান্ত এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের ইমিউনিটি সিস্টেম দুর্বল থাকে। ফলে তারা সবচাইতে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। এদেরকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়না এবং ভ্যাকসিন দিলেও ইমিউনিটি দুর্বল হওয়ার কারণে কোন রোগ প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয়না বরং ক্ষতি হতে পারে।তাই এসব ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত হলে, মৃত্যুঝুঁকি বেশি থাকে।

চলুন গরুর গল্পে ফিরে আসি। একটি উদাহরণ দিয়ে বলি যদিও উদাহরণটি পুরোপুরি বাস্তবসম্মত নাও হতে পারে। ধরুন, গরুগুলোকে বোভিন-রেস্পিরেটরি ভ্যাকসিন না দিয়ে বরং গরু গুলোকে আমরা বোভিন-রেস্পিরেটরি ভাইরাসে আক্রান্ত হতে দিয়ে তাদেরকে বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগ প্রতিরোধক্ষম করে তুলি। দেখা গেল, পালের ১০০ টি গরুর মধ্যে ৯০টি আক্রান্ত হল, বাকি ১০টি ভাগ্যক্রমে আক্রান্ত হল না। আক্রান্ত ৯০টির মধ্যে ১০ টি গরু মারা গেল এবং ৮০টি সুস্থ হয়ে উঠলো। যে ৮০টি গরু বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগ হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠলো তাদের শরীরে বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগের এন্টিবডি তৈরি হল এবং পরবর্তীতে ওই গরুগুলো আর বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগে আক্রান্ত হয়নি এবং রোগটি ছড়ায়নি। ধীরে ধীরে বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগের প্রাদুর্ভাব শেষ  হল। অবশেষে হিসেব দাঁড়ালো, মোট ৯০টি গরু জীবিত থাকলো যার ভিতর ৮০ টি গরুর শরীরে বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগের এন্টিবডি আছে। তাহলে অধিকাংশ গরুই এখন বোভিন-রেস্পিরেটরি প্রতিরোধক্ষম অর্থাৎ গরুর পালটি এখন হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করেছে। এই  হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে গিয়ে কিছু ক্ষতি স্বীকার করতে হয়েছিল, যেমন - ১০টি গরুকে বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগে প্রাণ দিতে হয়েছিল। আর ভালো দিকগুলো হল- অধিকাংশ গরু ইমিউনিটি অর্জন করেছে,   আক্রান্ত না হওয়া গরুগুলোর মধ্যে যেগুলোর ইমিউনিটি দুর্বল ছিল সেগুলোও কিন্তু বেঁচে গেল।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, ৮০ টি গরু যেহেতু ইমিউনিটি অর্জন করেছিল এবং পরবর্তীতে আর আক্রান্ত হয়ে রোগ ছড়ায়নি তাই ১০ টি গরু বোভিন-রেস্পিরেটরি রোগে আক্রান্ত না হওয়ার পিছনে এটি বড় একটি কারণ।  মনে রাখবেন, যে ১০টি গরু আক্রান্ত হয়নি তাদের সবার ইমিউনিটি যে সবল ছিল এমনটা নয় বরং রোগের বিস্তার কমে যাওয়ায় তারা ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেনি এবং আক্রান্তও হয়নি।

কিন্তু মানুষতো গরু বা ভেড়া নয়। মানুষকে কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনে কতটা ক্ষতি স্বীকার করতে হবে আসুন তার একটা হিসেব কষি। যেহেতু করোনার কার্যকরী কোন টীকা এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, তাই করোনা বা কোভিড-১৯ এর ক্ষেত্রে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করার একমাত্র উপায় অধিকাংশ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়া। এপিডেমিওলোজির ভাষায়, বিভিন্ন রোগের হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের জন্য মোট জনগোষ্ঠীর কতটুকু অংশ আক্রান্ত হতে হবে তার বিভিন্ন শতকরা হার নির্ধারণ করা আছে। যদি করোনার ক্ষেত্রে এটি মোট জনসংখ্যার শতকরা ৮০ ভাগ হয় তবে ১০০ জন মানুষের মধ্যে ৮০ জন মানুষকে করোনায় আক্রান্ত হতে হবে। এই হিসেবে, বাংলাদেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় ১৪ কোটি মানুষকে করোনায় আক্রান্ত হতে হবে। যদি করোনায় মৃত্যুহার শতকরা ১ ভাগও হয় তাহলে ১৪ কোটি করোনা আক্রান্তের মধ্যে বাংলাদেশের ১৪ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হবে। এটা গরু বা ভেড়ার ক্ষেত্রে হিসেব কষলেও মানুষের ক্ষেত্রে চিন্তা করাও দুরূহ ব্যাপার। যেহেতু করোনা ভাইরাস সম্পর্কে এখনও অনেককিছু অজানা রয়ে গেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেই যে আমরা দীর্ঘমেয়াদী ইমিউনিটি অর্জন করবো তারই বা নিশ্চয়তা কোথায়?
তাই এর সর্বোত্তম সমাধানের জন্য কার্যকরী টীকা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। মেনে চলতে হবে স্বাস্থ্যবিধি, ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, গ্রহণ করতে হবে শাকসবজি-ফলমূলসহ সকল ধরনের পুষ্টিকর খাবার যাতে ইমিউনিটি আরো শক্তিশালী হয়।

বিঃদ্রঃ এখানে যে হিসেব গুলো দেখানো হয়েছে তা রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করবেন না। এটি বিজ্ঞানের আলোকে লেখকের নিজস্ব অভিব্যক্তি।

Friday, May 29, 2020

প্রাণীদের সম্পর্কে ৭টি আশ্চর্যজনক সত্য-7 Surprising Facts about Animals

প্রাণীদের সম্পর্কে ৭টি আশ্চর্যজনক সত্য-7 Surprising Facts about Animals


  ১। প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ লালকাকড়া যৌনমিলন ও বংশবৃদ্ধির উদ্দেশ্যে খ্রীষ্টমাস দ্বীপ সংলগ্ন ফরেস্ট থেকে খ্রীষ্টমাস দ্বীপে রওনা দেয়। ভারত মহাসাগরের এই খ্রীষ্টমাস দ্বীপে প্রায় ৫ কোটি লাল কাকড়ার বাস যেখানে দ্বীপটিতে প্রায় ২ হাজার মানুষের বসবাস।
 
আশ্চর্যজনক-সত্য-red-crabs

Source: todayifoundout.com

 ২। তেলাপোকা মাথা ছাড়া কয়েক সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে। তেলাপোকাটি মূলত খাদ্যের অভাবে মারা যাবে।
 
আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-গল্প-cockroach
Source: BBC
 ৩। ডাইনোসর আসার ১২ কোটি বছর আগে থেকে তেলাপোকা পৃথিবীতে ছিল। বৃহদাকৃতির ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়ে গেলেও তেলাপোকা আজও টিকে আছে।
 
আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-bangla-golpo-dynosur
Image by Akiko Nagamatsu from Pixabay 

 ৪। নেপালের মাউন্ট ফরেস্টে  এক ধরনের দৈত্যাকার মৌমাছি বাস করে যার দেহের দৈর্ঘ্য ১.১ ইঞ্চি পর্যন্ত হতে পারে। এরা এক বিশেষ ধরনের মধু তৈরি করে যা খেলে মানুষ কাল্পনিক চিন্তা ভাবনা করে।
 
hallucination-honey-science-fact-আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-গল্প

Source:awesci.com

 ৫। সাপের দ্বীপ স্যাও পৌলো পৃথিবীর অন্যতম ভয়ংকর একটি দ্বীপ যার আয়তন ১১০ একর এবং যেখানে ৪  হাজারের বেশি বিষাক্ত সাপ  বসবাস করে।
 
bangla-golpo-আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-sao-paulo-snake-island
Source: viralspell
 ৬। পৃথিবীতে পিঁপড়ার সংখ্যা মানুষের সংখ্যার ১৬ লক্ষ গুন। পৃথিবীর সকল পিঁপড়ার একত্রে ওজন পৃথিবীর সকল মানুষের একত্রে ওজনের প্রায় সমান।
 
ant-science-fact-আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-গল্প

Source: wikipedia

 ৭। প্রাণীরা বৈদ্যুতিক লাইন এড়িয়ে চলতে পারে কারণ তারা আল্ট্রাভায়োলেট ফ্লাস দেখতে পায়। মানুষ ও বনমানুষ ছাড়া সকল স্তন্যপায়ী প্রাণী আল্ট্রাভায়োলেট ফ্লাস দেখতে পায়।
 
aninal-avoid-power-line-science-fact-আশ্চর্যজনক-সত্য-ঘটনা-গল্প

Source: discovermagazine.com



Sunday, May 24, 2020

বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে ৭টি আশ্চর্যজনক সত্য- 7 Amazing Facts about Famous People

বিশ্ববিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে ৭টি আশ্চর্যজনক সত্য- 7 Amazing Facts about Famous People

১। গ্যালিলিও গ্যালিলিও মধ্য আঙ্গুলটি এখনও ফ্লোরেন্সের বিজ্ঞান জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
Middle Finger of Galileo. Photo credit; commons.wikimedia.org
২। আলবার্ট আইনস্টাইন মৃত্যুর আগে কি বলেছিলেন তা অজানা রয়ে গেছে। কেননা তিনি জার্মান ভাষায় যে নার্সকে কথাগুলো বলেছিলেন সেই নার্স জার্মান ভাষা বোঝতো না।


Изображение Barbara A Lane с сайта Pixabay 


৩। টুইটারের লোগোতে যে নীল রঙের পাখি দেখা যায় তার নাম রাখা হয়েছে ল্যারি। মূলত বাস্কেটবল খেলোয়াড় ল্যারি বার্ডের নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়েছে।
Изображение Ali Uyar с сайта Pixabay

৪। মোনা লিসা ছবিটি নেপোলিয়ান বেনাপোর্টের শোবার ঘরে অনেক বছর টাঙানো ছিল।
৫। ১৯৩৯ সালে আমেরিকার সুরকার ও পিয়ানো-বাদক আর্ল ওয়াইল্ড কনসার্টটি ছিল টিভিতে দেখানো প্রথম লাইভ কনসার্ট। ৫৮ বছর পরে, তার পারফরমেন্সটিই ছিল প্রথম অনলাইন কনসার্ট।
Earl Wild 1978, Photo credit: wikipedia.org


৬। বিজ্ঞানী চার্লস ডারউইন জীবনে যত ধরনের প্রাণী দেখেছেন তার প্রায় সবই খাবার হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
Darwin Image of Andrew Martin from Pixabay 


৭। ১৯ বছর বয়সে স্যার আইজ্যাক নিউটন তার মা-বাবাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দিয়েছিলেন।
Изображение Gordon Johnson с сайта Pixabay 




আরও পড়ুন----

# জ্যোতির্বিজ্ঞানীগ্যালিলিওর ডানহাতের মধ্য আঙ্গুলটি ফ্লোরেন্সের গ্যালিলিও যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে

# প্রাণীদেরসম্পর্কে ৭টি আশ্চর্যজনক সত্য












জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ডানহাতের মধ্য আঙ্গুলটি ফ্লোরেন্সের গ্যালিলিও যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে (একটি আশ্চর্যজনক সত্য ঘটনা)-Amazing Fact about Scientist Galileo

জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিওর ডানহাতের মধ্য আঙ্গুলটি ফ্লোরেন্সের গ্যালিলিও যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে (একটি আশ্চর্যজনক সত্য ঘটনা)-Amazing Fact about Scientist Galileo

আশ্চর্যজনক-সত্য-বাংলা-গল্প-ঘটনা-amazing-bangla-story-science
গ্যালিলিও যাদুঘর / Photo credit: wikimedia.org


জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলির ডানহাতের মধ্য আঙ্গুলটি ফ্লোরেন্সের গ্যালিলিও যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে। যাদুঘরটির পূর্বের নাম ছিল হিস্ট্রি অব সায়েন্স যাদুঘর। ২০১০ সালের জুন মাসে গ্যালিলিওর দুটি আঙ্গুল ও একটি দাত যাদুঘরে স্থাপনের মাধ্যমে যাদুঘরটিকে গ্যালিলিও যাদুঘর নামকরণ করা হয়। 

আপনার মনে নানা প্রশ্ন আসতে পারে, গ্যালিলিওর মৃত্যুর প্রায় ৪ শত বছর পরে কেন এই সংরক্ষণ? ২০১০ সালের আগে তার দাত ও আঙ্গুলগুলো কোথায় ছিল? আসুন একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করি।

amazing-banglagolpo-scientist-galileo-আশ্চর্যজনক-সত্য-বাংলা-গল্প-ঘটনা
গ্যালিলিও গ্যালিলি/ Photo credit: wikimedia.org

গ্যালিলিও ১৫৬৪ সালে ইতালির পিসা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি হলেন আধুনিক পদার্থ বিজ্ঞানের এবং আধুনিক বিজ্ঞানের অন্যতম একজন জনক। গ্যালিলিও ছিলেন প্রথম ব্যক্তি যিনি তার আবিষ্কৃত দূরবীক্ষণ যন্ত্রের মাধ্যমে চাঁদের পৃষ্ঠদেশ, জুপিটারের চারটি বৃহৎ উপগ্রহ এবং সৌর কলঙ্ক দেখতে সক্ষম হয়েছিলেন। গ্যালিলিও কোপারনিকাসের মতবাদে বিশ্বাস করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "সূর্য সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে"।গ্যালিলিও ধর্মীয় দিক থেকে ছিলেন ক্যাথলিক খ্রিস্টান। কিন্তু ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের ধর্মীয় শিক্ষানুযায়ী, "পৃথিবী সৌরজগতের কেন্দ্রে অবস্থিত এবং সূর্য ও অন্যান্য গ্রহগুলো পৃথিবীর চারিদিকে ঘোরে"। তখনকার দিনে ক্যাথলিক চার্চ ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। গ্যালিলিওর এই মতবাদ, ক্যাথলিক শিক্ষার পরিপন্থী ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ক্যাথলিক চার্চের আইনে তাকে মারাত্মক দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। ১৬৩৩ সাল থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তাকে আজীবন গৃহবন্দী করে রাখার শাস্তি প্রদান করা হয়। 
১৬৪২ সালে বিখ্যাত এই পদার্থ বিজ্ঞানী গৃহবন্দি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন । যাজক সম্প্রদায়ের তোপের মুখে ফ্লোরেন্সের সান্তা ক্রস চার্চের বিখ্যাত ব্যক্তিদের কবরের পাশে গ্যালিলিওর মৃতদেহটি স্থান পায়নি। মৃত্যুর ৯৫ বছর পর ১৭৩৭ সালে গ্যালিলিও তার প্রাপ্য সম্মান ফিরে পান। তার কবরটিকে সান্তা ক্রস চার্চে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয় এবং মাইকেল অ্যাঞ্জেলোর কবরের বিপরীত পাশে সমাহিত করা হয়। গ্যালিলিওকে সম্মান প্রদর্শনপূর্বক স্মরণীয় করে রাখতে কবর স্থানান্তরের সময় তার লাশ থেকে ডান হাতের তিনটি আঙ্গুল, একটি দাত এবং মেরুদন্ডের একটি হাড় কেটে নেয়া হয়েছিল। একটি আঙ্গুল এবং মেরুদন্ডের হাড়টি পাদুয়া এবং ফ্লোরেন্সের  যাদুঘরে মমি করে সংরক্ষিত করা হয়েছিল। কিন্তু বাকি দুটি আঙ্গুল (একটি মধ্য আঙ্গুল ও একটি বৃদ্ধাঙ্গুল) এবং একটি দাত হারিয়ে গিয়েছিল। হারিয়ে যাওয়া দাত ও আঙ্গুলগুলো গ্যালিলিওপ্রেমী মানুষের হাতে স্থানান্তরিত হয়। অবশেষে ইতালির একজন ব্যাক্তি তার বাড়িতে কাচের ফুলদানির ভিতরে কাঠের কেসের উপর দাত ও আঙ্গুলগুলো রেখে দিয়েছিলেন। শত শত বছর ধরে থাকা ঐ বাড়ির কাচের ফুলদানিতে কি ছিল তা বাড়ির নতুন প্রজন্মের কাছে অজানা ছিল। অবশেষে পরিবারটি পুরোনো ফুলদানিটি বিক্রির উদ্দেশ্য ২০০৯ সালে নিলামে তোলেন। আলবার্টো ব্রুশি নামক ফ্লোরেন্সের বিখ্যাত শিল্প সংগ্রাহক ১৭ শতকের ঐ কাচের ফুলদানিটি ২০০৯ সালের অক্টোবরে নিলামে ক্রয় করেন। কিন্তু তিনি জানতেন না যে, তাতে গ্যালিলিওর দাত ও আঙ্গুল সংরক্ষিত ছিল। এরপর ব্রুশি ও তার কন্যা বিভিন্নভাবে এর সম্পর্কে জানার চেষ্টা করেন এবং তারা হিস্ট্রি অব সায়েন্স যাদুঘরের (বর্তমান নাম গ্যালিলিও যাদুঘর) পরিচালকের লেখা একটি বই পড়ে গ্যালিলিওর কবর স্থানান্তরের সময় দেহের অংশ কাটার বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে ব্রুশি যাদুঘরের পরিচালককে তাদের কেনা ফুলদানিটি সম্পর্কে জানান। যাদুঘর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে নিশ্চিত হয়েছিলেন যে, সেটা ছিল গ্যালিলিওর হারিয়ে যাওয়া দাত ও আঙ্গুল। অবশেষে গ্যালিলিওর মৃত্যুর ৪ শত বছর পরে তার দাত ও বৃদ্ধাঙ্গুলসহ মধ্যআঙ্গুলটি ২০১০ সালের জুন মাস থেকে এখনও গ্যালিলিও যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
আশ্চর্যজনক-সত্য-বাংলা-গল্প-ঘটনা-bangla-amazing-story
গ্যালিলিও গ্যালিলি সংরক্ষিত মধ্য আঙ্গুল/ Photo credit: wikimedia.org























এমন আরও আশ্চর্যজনক সত্য ঘটনা জানা থাকলে নিচে কমেন্ট করুন????





Friday, May 8, 2020

মহামারী যুগে যুগে:-৫০০০ বছর পূর্ব থেকে আজ অবধি ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ২০টি মহামারী (Deadly Endemics and Pandemics)

মহামারী যুগে যুগে:-৫০০০ বছর পূর্ব থেকে আজ অবধি ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ২০টি মহামারী (Deadly Endemics and Pandemics)

মহামারীগুলো যেন এক একটি ক্রম অনুসারে পৃথিবীতে এসেছে, তান্ডব চালিয়েছে এবং লণ্ডভণ্ড করেছে স্বাভাবিক জীবন। মানুষ যে কত অসহায় ছিল ইতিহাসই তার সাক্ষী। ৫০০০ বছর পূর্ব থেকে আজ অবধি ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ২০টি মহামারী সম্পর্কে এখানে তুলে ধরা হল। মহামারীর আশ্চর্যজনক ইতিহাস জানতে হলে শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে।

মহামারী-১: প্রাগৈতিহাসিক মহামারী সার্কা    
সময়কাল: খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩০০০

পাঁচ হাজার বছর আগে যে মহামারীটি পৃথিবীতে অশুভ ছায়া ফেলেছিল সেটারও উৎসস্থল ছিল প্রাগৈতিহাসিক চীন।

চীনে প্রাপ্ত ৫০০০ বছরের পুরানো যে বাড়িটি পাওয়া গিয়েছিল তার আকার প্রায় ১৪ বাই ১৫ ফুট ছিল। মানব কঙ্কালে পূর্ণ বাড়িটি একটি ভয়ঙ্কর মহামারীর ঈঙ্গিত দেয়। মহামারীতে চীনের একটি প্রাগৈতিহাসিক গ্রাম নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল এবং নিহতদের লাশগুলি ওই বাড়ির ভিতরে ভরাট করে রাখা হয়েছিল যা পরে
পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে । কোনও বয়সের লোক মহামারীর তান্ডব থেকে রেহাই পায়নি, কারণ
বাড়ির ভিতরে কিশোর, যুবক এবং মধ্যবয়স্ক সব বয়সের মানুষের কঙ্কাল পাওয়া গিয়েছিল। প্রত্নতাত্ত্বিক ওই সাইটটিকে এখন "হামিন মঙ্গা" বলা হয় এবং এটি উত্তর-পূর্ব চীনের অন্যতম সেরা সংরক্ষিত প্রাগৈতিহাসিক সাইট। প্রত্নতাত্ত্বিক এবং নৃতাত্ত্বিক অধ্যয়ন ইঙ্গিত দেয় যে, মহামারীটি এত তাড়াতাড়ি ঘটেছিল যে
যথাযথ দাফনের জন্য কোনও সময় ছিল না, এবং সাইটটিতে আর কখনও বসতি স্থাপন করা হয়নি। হামিন মঙ্গার সন্ধানের আগে উত্তর-পূর্ব চীনের মিয়াওজিগৌ নামে একটি সাইট পাওয়া গিয়েছিল যা প্রায় একই সময়কালের আরেকটি প্রাগৈতিহাসিক গণ সমাধি। একসাথে এই আবিষ্কারগুলি প্রমাণ করে যে, একটি মহামারী পুরো অঞ্চলকে ধ্বংস করে দিয়েছে।

মহামারী-২: অ্যাথেন্সের প্লেগ
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্বাব্দ ৪৩০

যিশু খ্রীস্টের জন্মের প্রায় ৪৩০ বছর আগে যখন এথেন্স এবং স্পার্টার মধ্যে যুদ্ধ শুরুর খুব বেশিদিন হবেনা, একটি মহামারী অ্যাথেন্সের মানুষকে বিধ্বস্ত করেছিল এবং মহামারীর কালো ছায়া পাঁচ বছর ধরে স্থায়ী হয়েছিল। আনুমানিক এক লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল ওই মহামারীতে। গ্রীক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডস (খ্রিস্টপূর্ব ৪৬০-৪০০) লিখেছেন যে "সুস্বাস্থ্যের লোকেরা হঠাৎ করেই মাথায় হিংস্র উত্তাপে আক্রান্ত হয়ে যায়, চোখ লালচে হয়ে যায়, গলা বা জিহ্বার মতো অভ্যন্তরীণ অংশ হয়ে ওঠে রক্তাক্ত এবং অস্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে থাকে। এই মহামারীটি ঠিক কী ছিল তা বহু আগে থেকেই বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্কের শেষ ছিল না। টাইফয়েড এবং ইবোলাকে অনেক বিজ্ঞানী সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন।


মহামারী-৩: অ্যান্টোনিন প্লেগ
সময়কাল: ১৬৫-১৮০ খ্রিস্টাব্দ

রোমান সাম্রাজ্য যখন শক্তির উচ্চতর শিখরে উন্নীত এবং শান্তির ডামাডোলে পরিপূর্ণ, তখন এনটোনিন নামক মহামারীটি রোমানদের শান্তি নিশ্চিহ্ন করতে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছিল। খ্রিস্টপূর্বাব্দ ২৭ থেকে ১৮০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সময়কে রোমানদের শান্তিকাল বলা হয় যা প্যাক্স রোমানা নামেও অভিহিত। পার্থিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষে রোমান সৈন্যরা যখন দেশে ফিরল তখন তারা যেন বিজয়ের আনন্দের চেয়ে বেশি দুঃখ বয়ে আনল। সৈন্যদের দ্বারা আগত এনটোনিন নামক রোগটি বসন্ত বা হাম ছিল বলে অনেকে ধারণা করেন তবে প্রকৃত সত্য আজও অজানা রয়ে গেছে। ম্যানচেস্টার মেট্রোপলিটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রোমান ইতিহাসের সিনিয়র প্রভাষক এপ্রিল পুডসে লিখেছিলেন, এনটোনিন প্লেগ, রোমান সেনাবাহিনীকে করেছিল বিধ্বস্ত এবং রোমান সাম্রাজ্যের ৫ লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল। রোমান সম্রাট এনটোনিয়াসের সহশাসক লুসিয়াস ১৬৯ খ্রিস্টাব্দে ওই মহামারীতে মৃত্যুবরণ করেন। প্যাক্স রোমানার সমাপ্তির পর অর্থাৎ ১৮০ খ্রিস্টাব্দের পরে, পুরো রোমান সাম্রাজ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, বর্বর গোষ্ঠীগুলির দ্বারা রোমান আরও গৃহযুদ্ধ এবং আগ্রাসনের সম্মুখীন হয়েছিল। প্লেগ সংঘটিত হওয়ার পরে খ্রিস্টধর্ম ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।


মহামারী-৪: সাইপ্রিয়ান প্লেগ
সময়কাল: ২৪৯-২৬২ খ্রিস্টাব্দ


সাইপ্রিয়ান নামক একজন লেখক মহামারীটিকে বিশ্ব শেষের ইঙ্গিত হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং অনুমান করা হয়েছিল যে কেবল রোমে একদিনে ৫০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। ২০১৪ সালে, লাক্সারের প্রত্নতাত্ত্বিকরা প্লেগ আক্রান্তদের একটি সমাহিত সমাধিস্থল খুঁজে পেয়েছিলেন। তাদের দেহগুলি লাইমের একটি ঘন স্তর দিয়ে ঢাকা ছিল যা তখন জীবাণুনাশক হিসাবে ব্যবহৃত হত। রোগটি প্রকৃতপক্ষে কি ছিল তা অজানা হলেও বসন্ত, ইনফ্লুয়েঞ্জা অথবা ভাইরাস জনিত কোন রোগ ছিল বলে অনেকে মনে করেন।


মহামারী-৫: জাস্টিনিয়ান প্লেগ:
সময়কাল: ৫৪১-৫৪২ খ্রিস্টাব্দ

বাইজেন্টাইন(পূর্ব রোমান) সাম্রাজ্যটি প্লেগ দ্বারা বিধ্বস্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে, সময়ের সাথে সাথে রোগটি অনেকবার আঘাত হেনেছিল। এটি ছিল বিশ্বের ভয়ংকর মহামারীগুলোর মধ্যে একটি। যার প্রকোপে বিশ্বের দশ ভাগের এক ভাগ মানুষ মারা গিয়েছিল। প্লেগটির নাম বাইজেন্টাইন সম্রাট জাস্টিনিয়ান এর নামানুসারে করা হয়েছে। তাঁর শাসনামলে বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য সর্বাধিক সীমাতে পৌঁছেছিল এবং মধ্য প্রাচ্য থেকে পশ্চিম ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করেছিল। জাস্টিনিয়ান সাম্রাজ্যের রাজধানী কনস্টান্টিনোপলে (আধুনিক ইস্তাম্বুল) একটি "হাগিয়া সোফিয়া" (হোলি উইজডম) নামে পরিচিত একটি দুর্দান্ত ক্যাথেড্রাল নির্মাণ করেছিলেন। জাস্টিনিয়ানও প্লেগে আক্রান্ত হলেও বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে, মহামারীটি আঘাত হানার পরে ধীরে ধীরে তার সাম্রাজ্য অঞ্চল হারাতে থাকে।


মহামারী-৬: দ্য ব্ল্যাক ডেথ
সময়কাল: ১৩৪৬-১৩৫৩



বিশ্বের সবচাইতে ভয়ংকর মহামারী দ্য ব্ল্যাক ডেথ। মধ্য ও পূর্ব এশিয়ায় রোগটির সর্বপ্রথম প্রাদুর্ভাব ঘটে। পরে ইউরোপ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। মহামারীতে বিশ্বের প্রায় ২০ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল। এবং ইউরোপের গোটা জনগোষ্ঠীর অর্ধেকেরও বেশি নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল। মহামারীটি ইউরোপের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিয়েছে। অধিক মৃত্যুর ফলে, শ্রমিক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল, উচ্চ বেতন দিয়ে শ্রমিকদের কাজ করাতে হত। শ্রমিকদের সংকট ইউরোপকে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের দিকে আরো একধাপ এগিয়ে নিতে সাহায্য করেছিল বলে মনে করা হয়। জাস্টিনিয়ান প্লেগ যে ধরনের জীবাণু দ্বারা সংঘটিত হয়েছিল ঠিক একই ধরনের জীবাণু দ্বারা দ্য ব্লাক ডেথ সংঘটিত হয়।


মহামারী-৭: কোকোলিজিটলি মহামারী
সময়কাল: ১৫৪৫-১৫৪৮

যে সংক্রমণটি কোকোলজিটলি মহামারী ঘটিয়েছিল তা হ'ল এক ধরণের ভাইরাল হেমোরজিক জ্বর যা মেক্সিকো এবং মধ্য আমেরিকার দের কোটি বাসিন্দাকে হত্যা করেছিল। ইতিমধ্যে চরম খরা দ্বারা দুর্বল এমন একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রোগটি সম্পূর্ণ বিপর্যয় ঘটিয়েছিল। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ভুক্তভোগীদের কঙ্কাল থেকে ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, তারা এস প্যারাটাইফি সি নামে পরিচিত সালমনেলার একটি উপ-প্রজাতিতে সংক্রামিত হয়েছিল, যা এন্ট্রিক জ্বর, টাইফয়েড সহ এক ধরণের জ্বরের কারণ হয়। এটি আজও একটি বড় স্বাস্থ্য হুমকির কারণ।


মহামারী-৮: আমেরিকান প্লেগস
সময়কাল: ষোড়শ শতাব্দী

আমেরিকান প্লেগ, ইউরেশিয়ান রোগগুলির একটি গুচ্ছ যা ইউরোপীয়দের মাধ্যমে আমেরিকায় আসে । বসন্তের পাশাপাশি এই মহামারীটি ইনকা এবং অ্যাজটেক সভ্যতার পতনের জন্য অবদান রেখেছিল। কিছু অনুমান অনুযায়ী, পশ্চিম গোলার্ধে আদিবাসীদের ৯০ ভাগ লোক মারা গিয়েছিল।





মহামারী-৯: লন্ডনের গ্রেট প্লেগ
সময়কাল: ১৬৬৫-১৬৬৬ খ্রিস্টাব্দ

মহামারীটি ১৬৬৫ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়েছিল এবং প্রচণ্ড গ্রীষ্মের মাসগুলিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। রোগটি ইদুর জাতীয় প্রাণী থেকে মানুষে সংক্রমিত হয়েছিল। মহামারীটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে লন্ডনের ১৫ ভাগ জনসংখ্যা সহ প্রায় ১০০,০০০ মানুষ মারা গিয়েছিল। তবে এই শহরের দুর্ভোগের শেষ ছিল না। ২ সেপ্টেম্বর, ১৬৬৬ সালে, লন্ডনের গ্রেট ফায়ার শুরু হয়েছিল, যা চার দিন ধরে স্থায়ী হয়েছিল এবং শহরের একটি বড় অংশ পুড়ে গিয়েছিল।


মহামারী-১০: মার্সেইয়ের গ্রেট প্লেগ:
সময়কাল: ১৭২০-১৭২৩

ফ্রান্সের মার্সেইয়ে গ্র্যান্ড-সেন্ট-এন্টোইন নামে একটি জাহাজ যখন পূর্ব ভূমধ্যসাগর থেকে পণ্যবহন করে এনেছিল ছিল তখন মার্সিলির মহামারী শুরু হয়েছিল। যদিও জাহাজটিকে পৃথক করে রাখা হয়েছিল, তবুও প্লেগ এর ভয়াল হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়নি। ইদুর জাতীয় প্রাণী থেকে পতঙ্গের মাধ্যমে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। মহামারীটি পরবর্তী তিন বছরে মার্সেই এবং আশেপাশের অঞ্চলে প্রায় এক লক্ষ মানুষের প্রাণ নাশ করে। অনুমান করা হয় যে, মার্সেইয়ের জনসংখ্যার ৩০ ভাগ নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল এই মহামারীতে।


মহামারী-১১: রাশিয়ান প্লেগ
সময়কাল: ১৭৭০-১৭৭২

প্লেগ-বিধ্বস্ত মস্কোয়, বিচ্ছিন্ন নাগরিকরা সহিংসতায় ফেটে পড়ে। দাঙ্গা শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং আর্চবিশপ অ্যামব্রোসিয়াসকে হত্যা করা হয় , যিনি উপাসনার জন্য ভিড় এড়াতে উৎসাহিত করেছিলেন। রাশিয়ার দ্বিতীয় সম্রাজ্ঞী, দ্বিতীয় ক্যাথরিন (যাকে ক্যাথরিন দ্য গ্রেটও বলা হয়) জনসাধারণের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য এতটাই মরিয়া হয়েছিলেন যে তিনি একটি তড়িঘড়ি ঘোষণা দিয়েছিলেন যাতে সমস্ত কারখানা মস্কো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। মহামারীটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিলেন। প্লেগ শেষ হওয়ার পরেও ক্যাথারিন শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে লড়াই করেছিলেন। ১৭৭৩ সালে, ইয়েমেলিয়ান পুগাচেভ, একজন ব্যক্তি যিনি পিটার তৃতীয় (ক্যাথরিনের মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত স্বামী) বলে দাবি করেছিলেন, তিনি একটি বিদ্রোহ করেছিলেন, যার ফলে আরও হাজার হাজার লোক মারা গিয়েছিল।


মহামারী-১২: ফিলাডেলফিয়া হলুদ জ্বর মহামারী
সময়কাল: ১৭৯৩

হলুদ জ্বর বা ইয়েলো ফিভার যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ফিলাডেলফিয়ায় হানা দিল, নীতি-নির্ধারকরা ভুলভাবে বিশ্বাস করেছিলেন যে দাসরা রোগ প্রতিরোধক্ষম ছিল। ফলস্বরূপ, বিলুপ্তিবাদীরা আফ্রিকান বংশোদ্ভূত লোকদের অসুস্থদের সেবা করার জন্য নার্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এই রোগটি মশার দ্বারা বাহিত হয় এবং সংক্রামিত হয়, যা ফিলাডেলফিয়ার বিশেষত গরম এবং আর্দ্র গ্রীষ্মের আবহাওয়ার সময় বিস্তার লাভ করে। শীত আসা অবধি এটি ছিল এবং মশা মারা গেল - অবশেষে মহামারীটি বন্ধ হয়ে গেল। ততক্ষণে ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গিয়েছিল।


মহামারী-১৩: ফ্লু মহামারী
সময়কাল: ১৮৮৯-১৮৯০

আধুনিক শিল্প যুগে, উন্নত পরিবহণ ব্যবস্থা ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের সংক্রমণকে আরও বেগবান করেছিল। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে, রোগটি বিশ্বজুড়ে বিস্তৃতি লাভ করে, যার দরুন ১ কোটি লোককে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে । মহামারীটি সর্বোচ্চ মৃত্যুহারে পৌঁছাতে মাত্র পাঁচ সপ্তাহ সময় লেগেছে। প্রথমদিকে রাশিয়ায় রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়।




মহামারী-১৪: আমেরিকান পোলিও মহামারী
সময়কাল: ১৯১৬

প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট ১৯২২ সালে পোলিও রোগে আক্রান্ত ছিলেন যখন তার বয়স ছিল ৩৯ বছর। নিউইয়র্ক সিটিতে শুরু হওয়া পোলিও মহামারির কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে ২৭০০০ মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ৬০০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এই রোগটি শিশুদের বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছিল এবং কখনও কখনও স্থায়ী প্রতিবন্ধীত্তের কারণ হয়ে দাড়ায়। ১৯৫৪ সালে সাল্ক ভ্যাকসিন আবিষ্কারের সাথে সাথে ব্যাপকভাবে রোগের প্রাদুর্ভাব কমে এসেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৭৯ সালে সর্বশেষ পোলিও কেসটি পাওয়া যায়। ১৯৮৮ সাল থেকে ডব্লিউ এইচ ও এর নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী টিকা দেওয়ার প্রচেষ্টায় এই রোগটি ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে, যদিও এটি এখনও পুরোপুরি নির্মূল হয়নি। আমেরিকা ১৯৯৪ সালে, ইউরোপ ২০০২ সালে, ভারত ও বাংলাদেশকে ২০১৪ সালে পোলিওমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়।


মহামারী-১৫: স্প্যানিশ ফ্লু
 সময়কাল: ১৯১৮-১৯২০


দক্ষিণ সমুদ্র থেকে উত্তর মেরু পর্যন্ত আনুমানিক ৫০ কোটি মানুষ স্প্যানিশ ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছিল। এদের মধ্যে এক-পঞ্চমাংশ লোক মারা গিয়েছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় সৈন্যদের সঙ্কট পরিস্থিতি এবং যুদ্ধকালীন পুষ্টির অভাবে ফ্লুর বিস্তার ও প্রাণঘাতীতা বহুকাংশে বৃদ্ধি পেয়েছিল।  স্প্যানিশ ফ্লু নাম হলেও স্পেনে আসলে এই রোগ শুরু হয়নি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় স্পেন একটি নিরপেক্ষ দেশ ছিল। ফলস্বরূপ, লোকেরা মিথ্যা বিশ্বাস করেছিল যে রোগটি স্পেনে ঘটেছিল এবং স্প্যানিশ ফ্লু নামটি আখ্যা দিয়েছিল।



মহামারী-১৬: এশিয়ান ফ্লু
সময়কাল: ১৯৫৭-১৯৫৮

এশিয়ান ফ্লু মহামারীটি ছিল ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য আরেকটি বিশ্বব্যাপী ভয়াল প্রদর্শন। চীনে এর শিকড় পোতার সাথে সাথে এই রোগটি ১০ লক্ষেরও বেশি লোকের জীবন কেড়ে নিয়েছে। মহামারীজনিত ভাইরাসটি মূলত এভিয়ান ফ্লু ভাইরাসের মিশ্রণ ছিল। যুক্তরাষ্ট্রেই ১১৬,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।






মহামারী-১৭: এইডস মহামারী
সময়কাল: ১৯৮১-বর্তমান।


এইডস এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছে। এইডস এর ভাইরাসটি সম্ভবত শিম্পাঞ্জির ভাইরাস থেকে উদ্ভূত হয়েছিল যা ১৯২০ এর দশকে পশ্চিম আফ্রিকার মানুষের মধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছিল। ভাইরাসটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে মহামারী আকার ধারণ করে। বিশ্বের প্রায় ৭ কোটিরও মানুষ এইচআইভিতে আক্রান্ত। সাব সাহারান আফ্রিকায় এর প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে বেশি। এই রোগটির কোনও চিকিৎসা নেই, তবে নব্বইয়ের দশকে বিকশিত ওষুধের ফলে এখন এই রোগে আক্রান্ত লোকেরা নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে একটি সাধারণ জীবনকাল উপভোগ করতে পারবেন। আরও বেশি উৎসাহের বিষয়, ২০২০ সালের প্রথম দিকে দু'জন এইচআইভি রোগী নিরাময় লাভ করেছে।


মহামারী-১৮: এইচ১এন১ সোয়াইন ফ্লু মহামারী
সময়কাল: ২০০৯-২০১০

Photo credit:CDC
২০০৯ সালের সোয়াইন ফ্লু মহামারীটি এইচ1এন1 এর একটি নতুন ভাইরাস স্ট্রেইনের কারণে ঘটেছিল যা ২০০৯ সালের বসন্তকাল মেক্সিকোতে শুরু হয়েছিল। পরে সারা বিশ্বে এটি ছড়িয়ে পড়ে। সিডিসির তথ্যমতে, এক বছরে ভাইরাসটি সারা পৃথিবী জুড়ে প্রায় ১.৪ বিলিয়ন মানুষকে সংক্রামিত করেছে এবং প্রায় পাচ লাখ মানুষের জীবন অবসান ঘটিয়েছে। ২০০৯ ফ্লু মহামারীটি প্রাথমিকভাবে শিশু এবং অল্প বয়স্কদেরকে প্রভাবিত করেছিল যেখানে বেশিরভাগ ফ্লু ভাইরাস বেশি বয়সের মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর কারণ হয়ে থাকে। তবে সোয়াইন ফ্লুর ক্ষেত্রে, বয়স্ক ব্যক্তিরা মনে হয়েছে যে এইচ1এন1 এর ভাইরাসগুলির গ্রুপের জন্য ইতিমধ্যে যথেষ্ট প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে, তাই খুব বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। এইচ1এন1 ভাইরাসের জন্য একটি ভ্যাকসিন এখন বার্ষিক ফ্লু ভ্যাকসিনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


মহামারী-১৯: পশ্চিম আফ্রিকান ইবোলা মহামারী
সময়কাল: ২০১৪-২০১৬

ইবোলা ২০১৪ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে পশ্চিম আফ্রিকার সর্বনাশ করেছে, যার মধ্যে ২৮৬০০ টি কেস সনাক্ত হয় এবং ১১৩৫০ জন মারা যায়। ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে গিনিতে রোগটি প্রথম সনাক্ত হওয়ার পর এটি দ্রুত লাইবেরিয়া এবং সিয়েরা লিওনে ছড়িয়ে পড়ে। মূলত এই তিনটি দেশে ইবোলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ইবোলার কোনও ঔষধ এখনও আবিষ্কৃত হয়নি, যদিও ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রচেষ্টা কখনও থেমে নেই। ভাইরাসটি উদ্ভব বাদুড় থেকে হয়েছে বলে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন।


মহামারী-২০: জিকা ভাইরাস মহামারী
সময়কাল: ২০১৫ -বর্তমান


২০১৫ সালের প্রথম দিকে মহামারী আকারে ব্রাজিলসহ দক্ষিণ আমেরিকা ও উত্তর আমেরিকার কিছু অংশে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে WHO একে বৈশ্বিক জরুরি জনসাস্হ্য সমস্যা হিসেবে ঘোষণা দেয়। জিকা ভাইরাস সাধারণত এডিস জাতীয় মশার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এটি মানুষের মধ্যেও যৌন সংক্রমণের মাধ্যমে হতে পারে। জিকা সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক বা শিশুদের পক্ষে ক্ষতিকারক না হলেও এটি গর্ভে থাকা শিশুদের আক্রমণ করতে পারে এবং জন্মগত ত্রুটি ঘটায়। মায়ের মাধ্যমে গর্ভে থাকা শিশু আক্রান্ত হয় এবং শিশুর মস্তিষ্ক ভালভাবে উন্নতি সাধন করতে পারে না ও মস্তিষ্ক তুলনামূলক ছোট আকার ধারণ করে যাকে মাইক্রোসেফালি বলা হয়। জিকা বহনকারী মশকগুলি উষ্ণ, আর্দ্র জলবায়ুতে সবচেয়ে বেশি বিকাশ লাভ করে



সহায়তা নেয়া হয়েছে: 
1. livescience.com
2. wikipedia.org
3. wikimedia